র্যাবকে জনবান্ধব ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ঢাকা, ১৮ মে : র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) আরও জনবান্ধব, দায়িত্বশীল ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার রাজধানীর উত্তরায় র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাবকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, অভিযান পরিচালনায় ন্যূনতম বল প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ।
তিনি জানান, র্যাবের জন্য জঙ্গল সলিমপুরে একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবর্তনশীল অপরাধ দমনে আধুনিক কৌশল গ্রহণ, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন র্যাব আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, র্যাবকে একটি এলিট ফোর্স হিসেবেই রাখা হবে, তবে এর আইন যুগোপযোগী করে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। একই সঙ্গে বাহিনীর নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা থেকেই র্যাব গঠন করা হয়েছিল। অতীতে এর মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ হলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের কিছু সদস্যের কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনীর ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।
অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।