logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সারাদেশে ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ন সারাদেশে
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক : অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত  প্রকল্পে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।


মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে প্রকল্প এলাকায় অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়াকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে কমিশনিংয়ের লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজকের দিনটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।


সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন একই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ফুয়েল লোডিং শুধু একটি প্রযুক্তিগত ধাপ নয়, এটি বাংলাদেশের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বাস্তব প্রতিফলন।


অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা  (IAEA)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। এছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা -এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ উপস্থিত থেকে প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুয়েল লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


তাদের মতে, প্রতি মাসে উৎপাদন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।


সরকারি তথ্যমতে, ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা রয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করে নির্মিত এই কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করবে।


এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/15037
Page of