logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সারাদেশে ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভনে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্র: সিআইডির অভিযানে ৪ প্রতারক গ্রেফতার

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন সারাদেশে
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভনে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্র: সিআইডির অভিযানে ৪ প্রতারক গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক। 


চাকরি ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।


সিআইডি জানায়, প্রতারক চক্রটি প্রথমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে কথিত অফিসে নিয়ে যায়। পরে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ শতাংশ লাভসহ মূলধন ফেরতের আশ্বাস দেয়। এই প্রলোভনে পড়ে ধাপে ধাপে ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা।


তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো লাভ তো দূরের কথা, মূল অর্থও ফেরত দেয়নি চক্রটি। বরং আরও অর্থ বিনিয়োগের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।


মামলার তদন্তে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিমের একটি দল অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. তোফায়েল হোসেন ওরফে রতন (৬৮), মো. লিটন মুন্সী (৬০), মো. বাবুল হোসেন (৫৫) এবং মো. নুরুল ইসলাম (৩৯)।


অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, ১২টি সিম কার্ড, ৫টি মানি রিসিপ্ট, ২টি বিলের কাগজ এবং বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।


মামলার এজাহারে জানা যায়, ভুক্তভোগী ২০২৪ সালে অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে পিআরএল গ্রহণ করেন। একই বছরের অক্টোবরে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে রাজধানীর মিরপুরে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (এডমিন) পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তিনি সেখানে গেলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তার কাগজপত্র যাচাই করে চাকরি নিশ্চিত করার কথা জানায়।


এরপর নভেম্বর মাসে তাকে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ শতাংশ মুনাফার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই প্রলোভনে পড়ে তিনি ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন, যা পরে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।


তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করে মোটা অঙ্কের বেতন ও উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। তারা রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় অফিস ভাড়া নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতো।


এ বিষয়ে সিআইডির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে টার্গেট নির্ধারণ করে এবং বিশ্বাস অর্জনের পর ধাপে ধাপে অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তারা টার্গেট করত।”


তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে না পড়ে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত।”


গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক প্রতারণা ও ফৌজদারি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।


বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


সিআইডি সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং অজ্ঞাত নম্বর থেকে চাকরি বা ব্যবসার প্রলোভনে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14916
Page of