ভৈরবে নিখোঁজের ৬ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর লাশ—বাবার বিরুদ্ধে হত্যা অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত
ভৈরব প্রতিনিধি:
ভৈরব-এ নিখোঁজের ছয় দিন পর তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদ নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির জন্মদাতা পিতা মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের একটি নির্জন ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহের জেরে গত সপ্তাহে তার সঙ্গে স্ত্রী তাসলিমা বেগমের তীব্র ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তাসলিমা তাদের সাত মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
পরদিন শিশুটি অসুস্থ—এমন খবর পেয়ে দাদী রাবেয়া বেগম ওষুধ খাওয়ানোর কথা বলে শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। পরে বাবা মিরাজ মিয়া শিশুটিকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে দাবি করে যে, সে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। এ ঘটনায় তাসলিমা বেগম ভৈরব থানা-য় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে নিখোঁজের ছয় দিন পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুর মা তাসলিমা বেগম বলেন, “আমার কোল খালি করে ও (মিরাজ) আমার কলিজাটারে কাইড়া নিছে। ঝগড়া করে বাপের বাড়ি গেছিলাম, কিন্তু আমার বাচ্চাটারে দাদী ওষুধ খাওয়ানোর নাম করে নিয়ে আসে। এরপর মিরাজ ওকে নিয়ে গিয়ে বলে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি থানায় জানিয়েছি, এখন আমার সন্তানকে মৃত অবস্থায় পেলাম। আমি মিরাজের ফাঁসি চাই।”
এলাকাবাসীরা জানান, মিরাজ একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারে অশান্তি করতেন তিনি। এমন নির্মম ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, খবর পেয়ে ডোবা থেকে শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত পিতা পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।