logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মৌলভীবাজার ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

কুলাউড়ায় দুই শতাধিক পাঠকের মাঝে বই বিতরণ: আদর্শ পাঠাগারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন মৌলভীবাজার
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
কুলাউড়ায় দুই শতাধিক পাঠকের মাঝে বই বিতরণ: আদর্শ পাঠাগারের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

 কুলাউড়া প্রতিনিধি |


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ‘আদর্শ পাঠাগার’। ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’ উপলক্ষে প্রতিযোগিতামূলক পাঠ কার্যক্রমের জন্য দুই শতাধিক পাঠকের মধ্যে বই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।


শনিবার (১৮ এপ্রিল) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কুলাউড়ায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বইপড়া উৎসবের সঞ্চালক ও ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। তিনি তার বক্তব্যে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।


অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো এবং বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক।


এছাড়া বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম.এস. আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন এবং তামান্না আক্তার তান্নি। বক্তারা আদর্শ পাঠাগারের এই বইপড়ার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।


আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন জানান, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে তিনি কুলাউড়া শহরে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০টি বইপড়া উৎসব আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও পাঠক অংশগ্রহণ করেছেন।


তিনি আরও জানান, পাঠাগারের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং শিক্ষানুরাগী প্রবাসীদের সহযোগিতায় গত সাত বছর ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এবারের আয়োজনে আগ্রহী অনেক পাঠককে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আর্থিক ও বই সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


উল্লেখ্য, একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট বই প্রদান করা হয়। তারা ২০ দিন সময় নিয়ে বইটি পড়েন। পরবর্তীতে বই থেকে ১০০ নম্বরের একটি জ্ঞানমূলক পরীক্ষায় অংশ নেন। সেরা পাঠকদের নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পাঠককে দুটি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14840
Page of