ভৈরবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হাইওয়ে পুলিশের বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন
ভৈরবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে হাইওয়ে থানা পুলিশ। সিলেট হাইওয়ে রিজিয়নের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকালে ভৈরব হাইওয়ে থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির রঙে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে এবং পুরো অনুষ্ঠানস্থলকে উৎসবমুখর করে তোলে।
এর আগে হাইওয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বাঙালীয়ানা খাবার পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান দেখতে আসা দর্শকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তৃপ্তির সাথে পান্তা-ইলিশ উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট হাইওয়ে রিজিয়নের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম এবং ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন কুমার চৌধুরীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় তারা শিল্পীদের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, সিলেট হাইওয়ে রিজিয়নের আওতাধীন সবগুলো থানায় একযোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।
এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে উপজেলা হলরুমে রুই মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার আয়োজন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম অংশ নেন।
তিনি বলেন, পুরনো দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখ ভৈরবে যেমন আনন্দের দিন, তেমনি এটি বেদনারও স্মৃতি বহন করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দিনে পানাউল্লাহর চরে খেয়া পারাপারের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৭০০ মানুষকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যা করে—তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি আরও মেঘনাপাড়ের ত্রি-সেতু এলাকায় বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন।
সব মিলিয়ে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের আবেগে ভৈরবে দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য নববর্ষ উৎসবে।