গোয়াইনঘাটে বিয়ের দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে তরুণীর অবস্থান, ৪ দিনেও মেলেনি সুরাহা
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের দাবিতে ওমানপ্রবাসী এক তরুণের বাড়িতে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় একই ইউনিয়নের বাসিন্দা তরুণীর বাবা মনির উদ্দীন বাদী হয়ে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের চিরুরপাড় গ্রামের ওমানপ্রবাসী দেলোয়ারের (২২) সঙ্গে ওই তরুণীর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এ সম্পর্কের মধ্যে দেলোয়ার ওই তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণীর দাবি, দেলোয়ার দেশে আসার পর তারা একসঙ্গে কয়েক দিন ঘোরাফেরাও করেন। পরে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, দেলোয়ার অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরপর দেলোয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ করে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।
এমন খবর পেয়ে চার দিন আগে ওই তরুণী দেলোয়ারের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। বিয়ের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বাড়ি থেকে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।
ওই তরুণী বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দেলোয়ার তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এখন তিনি তাকে অস্বীকার করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাড়ি ছাড়বেন না বলেও জানান।
তরুণী আরও বলেন, তার দাবি মেনে নেওয়া না হলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন।
এদিকে প্রেমিকা বাড়িতে এসে অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়ে দেলোয়ার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য লোকমান বলেন, মেয়েটি গত চার দিন ধরে বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। ছেলে ও মেয়ে উভয় পক্ষের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে ছেলে বাড়িতে না থাকায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।
সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সঞ্জিৎ চন্দ্র দাস বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সারওয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।
এদিকে চার দিন ধরে তরুণীর অবস্থানের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।