কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো: সিলেটে ৩ জন কারাগারে
সিলেট : সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরে এক কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর ঘটনায় আটক তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মহানগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার সি-ব্লকের মো. জাকির হোসেন (৪৩), তার ভাই মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।
শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ জানান, কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তিনজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড়
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শাহজালাল উপশহর এলাকায় এক কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক শিকল ধরে কিশোরীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে কাঁদতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টার অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাত ৭টার দিকে শাহজালাল উপশহরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে শিকল বাঁধা অবস্থায় কিশোরীকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি তাকে আটককারী স্থানীয় ব্যক্তিরা।
পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পরও কেন শাস্তি?
ঘটনার বিষয়ে শাহপরাণ থানার ওসি ফেরদৌস আহমদ আগে জানিয়েছিলেন, কিশোরীকে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর বিষয়টি তার জানা ছিল না। কেউ এমনটি করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারায় কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে আটকের পর তাকে বিলম্ব না করে পুলিশের কাছে বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হয়।
তিনি বলেন, কাউকে আটক করার পর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া, কোমরে শিকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা আইনসম্মত নয়। এ ধরনের আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
এদিকে কিশোরীকে শিকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানোর ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।