নদীভাঙন ঠেকাতে নৌ পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৯
সেলিম মাহবুব, ছাতক:
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের দাবির মুখে অভিযান চালিয়েছে নৌ পুলিশ। অভিযানে ২১টি ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নৌ পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানার সীমান্তবর্তী কলাবাগান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে নদীভাঙনের তীব্রতায় বহু বসতঘর, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।
গ্রামবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ২১টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয় এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৯ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সাদেক মিয়া (২২), মো. হোসেন মিয়া (৩৩), জাহাঙ্গীর আলম (২৭), সুমন মিয়া (৩১), তোফাজ্জল হোসেন (২৬), ফরিদ উদ্দিন (৩১), রাজ্জাক মিয়া (৩১), তারেকুল ইসলাম তারেক (২৭) ও মো. সেলিম মিয়া (৩০)। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবং কয়েকজন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
জব্দ করা ড্রেজার মেশিনগুলো বর্তমানে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে রয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয় মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছি। নদী, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের দাবির পর অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।