১ লাখ ৬০ হাজার টাকার হাঁস আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাবেক মেম্বার
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় এক হাঁস খামারির হাঁস আত্মসাৎ, হামলা, হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক ইউপি সদস্য সাত্তার মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলায় তাঁর ছেলে নাঈম মিয়া, অনিক মিয়া ও পলাশ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ৩১ জুলাই আজমিরীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় উপজেলার নস্বর সদর ইউনিয়নের রনিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপেন্দ্র দাস বাদী হয়ে এ অভিযোগ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপেন্দ্র দাসের একটি হাঁসের খামারে ৩১১টি হাঁস ছিল। তিনি বাড়ির পাশের রনিয়া হাওরে হাঁসগুলো ছেড়ে পালন করতেন। গত ১৯ জুলাই বিকেলে তাঁর হাঁসগুলো সাত্তার মিয়ার হাঁসের পালের সঙ্গে মিশে যায়। এ সুযোগে সাত্তার মিয়া এবং তাঁর ছেলে নাঈম মিয়া, অনিক মিয়া ও পলাশ মিয়া পরস্পরের যোগসাজশে হাঁসগুলো নিজেদের খামারে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে সাত্তার মিয়া হাঁসগুলো ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরদিন ২০৩টি হাঁস নিজে থেকেই বাদীর খামারে ফিরে আসে। তবে অবশিষ্ট ১০৮টি হাঁস অভিযুক্তরা আটকে রাখেন। এছাড়া বাদীর খামার থেকে আরও ছয়টি বড় হাঁস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এতে মোট ১১৪টি হাঁস অভিযুক্তদের দখলে থেকে যায় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ২৫ জুলাই একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্তরা হাঁস ফেরত দিতে সম্মত হলেও পরদিন ২৬ জুলাই সকালে সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বাদীর খামারের সব ৩১১টি হাঁস, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, জোরপূর্বক নিজেদের খামারে নিয়ে যান।
মামলায় আরও বলা হয়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে বাদী বিভিন্ন ব্যক্তির শরণাপন্ন হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও গালিগালাজ করেন।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে আজমিরীগঞ্জ চরবাজারের জুবায়ের হোটেলের সামনে সাত্তার মিয়াসহ অন্য আসামিরা বাদী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পথরোধ করেন। এ সময় সাত্তার মিয়া তাঁর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে বাহার আলী নামে একজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা ধাওয়া করলে বাদী ও তাঁর সঙ্গীরা দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত বাহার আলীকে উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, সাত্তার মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, তিনি পূর্বে সুভাষ শীল নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে তাঁর হাত ভেঙে দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য সাত্তার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।