হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা নিয়ে জটিলতার অবসান
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজে দীর্ঘদিনের একটি বড় প্রতিবন্ধকতার অবসান হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হওয়ায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাহুবল উপজেলার কল্যাণপুর এলাকায় একটি মন্দির, দুটি মসজিদ, একটি কবরস্থান, একটি শ্মশান ও একটি মাদ্রাসার জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সড়কের নকশা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে জায়গা ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করায় ওই অংশে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ একাধিকবার সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ইসকন, রামকৃষ্ণ মিশন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির নেতৃবৃন্দ, মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় হুইপ জি কে গউছ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মহাসড়ক নির্মাণে যেসব ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেগুলো যথাযথভাবে পুনর্বাসন এবং আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে।
হুইপ জি কে গউছের এই আশ্বাসের পর উপস্থিত সব পক্ষ মহাসড়ক নির্মাণকাজে সহযোগিতা করতে সম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল রায়, মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন, বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন তালুকদার, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী বেদমায়া নন্দজী, ইসকনের অধ্যক্ষ উদয় গৌর ব্রহ্মচারী, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মোতাহের হোসেন, অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন, অ্যাডভোকেট স্বরাজ বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট অহিন্দ্র দত্ত, শংকর পাল, সুখলাল সূত্রধর, অ্যাডভোকেট মিঠু গোপসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।