দুপুর ১টাতেও অনুপস্থিত ধর্মপাশার পিআইও; সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও একই অভিযোগ স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন কাজে উপজেলা কার্যালয়ে আসা সেবা প্রত্যাশীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন নিয়মিতভাবে এ নির্দেশনা অনুসরণ করছেন না এবং নিজের সুবিধামতো সময়ে অফিসে আসেন।
রোববার (২ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। পরে দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়নি। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসা ৭ থেকে ৮ জন সেবা প্রত্যাশীকে কার্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
অপেক্ষমাণ একাধিক সেবা প্রত্যাশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ কর্মকর্তা শুধু নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না, সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনই অনুপস্থিত থাকেন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তাদের নানাভাবে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
অফিসে উপস্থিত অফিস সহায়ক রতন সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া ৫৫টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যথাযথভাবে প্রকল্পগুলো তদারকি না করায় অনেক উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাকির হোসেনের সরকারি মোবাইল নম্বরে , অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো উত্তরও দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”