ধর্মপাশায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ১৬ জন আহত
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় পাগলা শিয়ালের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় টিটন (৩৫) নামে একজনকে ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হয়েছে। হঠাৎ করে শিয়ালের এমন ধারাবাহিক আক্রমণে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহতরা হলেন— হলিদাকান্দা গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে রূপা আক্তার (১৫), নোয়াবন গ্রামের এরশাদ মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তার (৮) ও জিয়াউর রহমানের মেয়ে মনি আক্তার (২৫), ধর্মপাশা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মির্জা আলম (৩৪), আব্দুল হাকিমের ছেলে ইজাজুল (২৭), শ্যামল সরকারের ছেলে সারন সরকার (১২), সুরুজ আলীর ছেলে মুফতি আব্দুল কাওসার (৪০), মো. বাবুল মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২২), বিদুর ছেলে বিজয় (১৭), মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে চাঁদ (২২), ফাতেমানগর এলাকার ওয়াহেদ আলীর ছেলে সবুজ মিয়া (৫৫), বাবলু মিয়ার স্ত্রী বিলকিস (২৬), কামলাবাজ গ্রামের হাজি জামিল উদ্দিনের ছেলে নুরুল আমিন (৬৫), আহমদপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫), জয়শ্রী গ্রামের নিখিলের ছেলে টিটন (৩৫) এবং বানারশিপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে শিপন (১৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বাড়ির আঙিনা কিংবা রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় হঠাৎ একটি বা একাধিক শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন। শিয়ালগুলো আকস্মিকভাবে মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে কামড়ে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ব্যক্তি আহত হলে তারা চিকিৎসার জন্য ধর্মপাশা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএফপিও) ডা. সুবীর সরকার জানান, আহতদের সবাইকে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এলাকায় পাগলা শিয়ালের এমন উপদ্রবে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এ ধরনের হিংস্র পশুর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।