বহিষ্কার প্রত্যাহার না হলে রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলে উত্তেজনা তুঙ্গে
ডেস্ক নিউজ।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলে বহিষ্কার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিনা নোটিশে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বহিষ্কারের দীর্ঘ সময় পার হলেও সাংগঠনিক পদ ফিরে না পাওয়ায় এবার কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সুয়েব আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমদ সবুজ।
দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধারণের পর তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন— আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধান না হলে রাজপথেই হবে এর চূড়ান্ত ফয়সালা।
উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই হঠাৎ করেই এই দুই ছাত্রনেতাকে তাদের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে উপজেলা ছাত্রদল। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
সেই সময় নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, খুব শিগগিরই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সুয়েব আহমদ ও জামাল আহমদ সবুজকে তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু মাসের পর মাস পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।
নেতাদের অভিযোগ, বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজ উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধানে আন্তরিক চেষ্টা চালিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয় যে, দ্রুত এই জটিলতার অবসান ঘটানো হবে।
এমনকি নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে একটি মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে সুয়েব আহমদ ও জামাল আহমদ সবুজকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করা হয় যে, খুব দ্রুতই তাদের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তব প্রতিফলন এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন বহিষ্কৃত এই দুই ছাত্রনেতা। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন “আমরা দীর্ঘ সময় দলের চেইন অব কমান্ড এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্ত থেকেছি। কিন্তু আমাদের এই ধৈর্যকে যদি কেউ দুর্বলতা মনে করেন, তাহলে তারা মারাত্মক ভুল করছেন।”
আমাদের সম্মান ও সাংগঠনিক অবস্থান দ্রুত ফিরিয়ে না দিলে আমরা আমাদের চিরচেনা জায়গা— রাজপথে ফিরে যেতে বাধ্য হবো।” তাদের এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাও এই ইস্যুতে সরব হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবি, জনপ্রিয় ও যোগ্য নেতৃত্বকে এভাবে বহিষ্কার করে দূরে সরিয়ে রাখা হলে সংগঠনের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাংগঠনিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হবে।
তারা অবিলম্বে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সুয়েব আহমদ ও জামাল আহমদ সবুজকে স্বপদে পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের অভ্যন্তরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তা বৃহত্তর পর্যায়ে সংঘাত বা আন্দোলনে রূপ নিতে পারে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সবশেষে ছাত্রনেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন— আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধানই তাদের প্রত্যাশা, কিন্তু দাবি উপেক্ষিত হলে তারা আর নীরব থাকবেন না, প্রয়োজনে রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে “আলোচনায় সমাধান না হলে, ফয়সালা হবে রাজপথেই।,