দিরাইয়ে ওসির বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিতর্ক, প্রতিবাদ জানালেন স্থানীয় নেতারা
দিরাই প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে তথ্যহীন ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা। তাঁদের দাবি, দিরাই থানায় যোগদানের পর থেকে ওসি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছেন এবং মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা যুবদল নেতা আজাদ মিয়া বলেন, ওসি আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে মাদক কারবারি ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করায় তিনি স্থানীয় মানুষের প্রশংসা পেয়েছেন বলে দাবি করেন আজাদ মিয়া। ওসির বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে বানোয়াট উল্লেখ করে তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
জমিয়ত নেতা সৈয়দ উমেদ আলী বলেন, দিরাইয়ে অতীতের বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো নিয়ে যথাযথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, মাদক নির্মূলে ওসির ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং মন্দ কাজের নিন্দা করা উচিত।
উপজেলা তরুণ দলের সিনিয়র সহসভাপতি আমির হোসেন আমু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ওসির বিরুদ্ধে কিছু সংবাদকর্মী ব্যক্তিস্বার্থে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি মনে করেন। এ ধরনের প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন দাবি করে ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারি ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কারণে একটি পক্ষ তাঁর পেছনে লেগেছে। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।
নিজের বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে ওসি বলেন, ২০০৪ সালে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ির কাজ শুরু করেছিলেন। এ কাজে আত্মীয়স্বজনও তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। এখনো ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করছেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্টে দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটকের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরেও দিরাইয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের অভিযান পরিচালনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তবে ওসির বিরুদ্ধে স্থানীয় দৈনিকটিতে প্রকাশিত মূল সংবাদে কী তথ্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তা এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা বা অসত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য এবং উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।