সুনামগঞ্জে ব্যবসায়ী পরিবারে হামলা, অভিযুক্তদের আটক চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে মেইকার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমান শেখের ছেলে ও বাদাঘাট বাজারস্থ জেসমিন ইলেক্ট্রনিক্স মেইকারের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ উদ্দিন শেখ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সুনামগঞ্জের পশ্চিমবাজারস্থ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেসমিন ইলেক্ট্রনিক্স মেইকারের দোকানের সামনে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শফিকুল ইসলাম শেখ ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, হামলার সময় তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তার স্ত্রী হেলেনা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের ওপরও দা, লাঠি, সুলফিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা করা হয়। এতে স্ত্রী হেলেনা বেগম, প্রতিবন্ধী ছেলে আজিজুল ইসলাম, কনে শিলা বেগম ও সাবিনা বেগম গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর আহতদের সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় রিয়াজ উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬ ও ৩৪ ধারায় তাহিরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর ১১২/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণপূর্বক তদন্তের জন্য তাহিরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
মামলায় কামড়াবন্দ গ্রামের মৃত খসরু শেখের ছেলে শফিকুল ইসলাম শেখ, তার ছেলে শাকির শেখ ও শাওন শেখ, বাদাঘাট বাজারের মৃত মুজিবুর রহমান শেখের ছেলে আব্দুর রহমান শেখ, তার স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম এবং তাদের তিন ছেলে আইনুল হক শেখ, আলম শেখ ও আনিছ শেখকে আসামি করা হয়েছে।
রিয়াজ উদ্দিন শেখ আরও বলেন, তার বসতবাড়ির সিঁড়ির কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। পরে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় বিবিধ ৬২/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করলে আদালত বিবাদীদের কারণ দর্শানোসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।
তার অভিযোগ, আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষরা এখনো হামলা ও নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে যাচ্ছে।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল শিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, আদালতে দায়েরকৃত মামলার আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।