logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
অশ্রু আর ভালোবাসায় ভেজা বিদায়: সমতা কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন অবসর নিলেন

রাজকীয় বিদায়: ৪৩ বছরের শিক্ষকতা শেষে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিময় মুহূর্ত

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
রাজকীয় বিদায়: ৪৩ বছরের শিক্ষকতা শেষে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিময় মুহূর্ত

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সাজ্জাদ মাহমুদ মনির


দীর্ঘ ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসর নিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন। তাঁর বিদায়কে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ, যা রূপ নেয় এক রাজকীয় সংবর্ধনায়।


শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর অবসর উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও শিক্ষকরা এতে অংশ নেন। প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য স্কুল গেটে ভিড় করেন অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী।


সকালে মোটরসাইকেল বহর দিয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিনকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, উপহার সামগ্রী এবং পাঞ্জাবি প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থও উপহার দেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সম্মাননা হিসেবে তাঁকে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ১৯৯৫ সালের এসএসসি ব্যাচ তাঁকে একটি ওমরাহ প্যাকেজ উপহার দেয়।


অনুষ্ঠান শেষে ফুলে সাজানো প্রাইভেটকারে করে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন সাবেক শিক্ষার্থীরা।


জানা যায়, নাসির উদ্দিন ১৯৮৩ সালের ১ অক্টোবর সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯১ সালে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে সহকারী শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হন। ২০১৭ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষের মৃত্যুতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তিনি অবসর গ্রহণ করেন।


বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, “বিদায় অনেক কষ্টের। তবে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে আমি সবসময় পাশে থাকবো।”


সহকর্মীরা তাঁর অবদান স্মরণ করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক উন্নয়ন লাভ করেছে এবং তিনি ছিলেন একজন আদর্শ ও সাহসী শিক্ষক।


অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক আবেগঘন স্মৃতিময় বিদায়ে, যেখানে ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন একজন প্রিয় শিক্ষক।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14982
Page of