logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে বড় প্রকল্প, ২ মে ভিত্তিপ্রস্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুরমা নদীতে স্লুইস গেট, দুই তীরে ১৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
সুরমা নদীতে স্লুইস গেট, দুই তীরে ১৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে

সিলেট। 

সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং নগর সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে সুরমা নদীকে ঘিরে বড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীতে আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ এবং নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।


আগামী ২ মে সিলেট সফরে এসে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।


সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নদীকেন্দ্রিক এই বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং নাগরিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে একাধিক অবকাঠামোগত কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।


প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর বিনোদন ও হাঁটার সুবিধার্থে নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। নদীতীরজুড়ে থাকবে সৌন্দর্যবর্ধনের নানা উদ্যোগ, বসার স্থান, সবুজায়ন ও আলোকসজ্জা। এছাড়া পানি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সুরমা নদীতে স্থাপন করা হবে আধুনিক স্লুইস গেট।


সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে নগরবাসী আধুনিক ও নান্দনিক নদীতীর পাবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সুরমা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।


তিনি আরও বলেন, আমরা পিছিয়ে পড়া সিলেটকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে চাই। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতি অত্যন্ত সদয়। তাঁর উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, রেলওয়ের ডাবল লাইনসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, যা সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সিলেট সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম সিলেট সফর। আমরা তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাই এবং সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।


তিনি আরও জানান, মৃতপ্রায় সুরমা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে খননসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাক নদ থেকে উৎপত্তিস্থল জকিগঞ্জের আমলসীদ থেকে শুরু করে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের মারকুলি পর্যন্ত নদী খননের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর ফলে সুরমা ও কুশিয়ারার নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাতীয় পর্যায়ের ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন, খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য্য ও লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14990
Page of