বড়লেখা পল্লীবিদ্যুতে লাইনম্যান-কেন্দ্রিক ঘুষ সিন্ডিকেটের অভিযোগ, গ্রাহক হয়রানির নালিশ
বড়লেখা প্রতিনিধি।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অফিসে লাইনম্যান কামরুল ইসলামকে ঘিরে গ্রাহক হয়রানি, দায়িত্বে অবহেলা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিছু জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ, কিলোওয়াট বৃদ্ধি, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন ও লাইন নির্মাণ সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের তদন্তে না গিয়ে লাইনম্যান কামরুল ইসলামকে দিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করানো হয় এবং এরপর ঘুষের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
গ্রাহকদের দাবি, দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন ও অমল পাল মাঠে না গিয়ে অফিস থেকেই সিদ্ধান্ত দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনুকূল রিপোর্ট পেতে হলে অর্থ লেনদেন করতে হয়, অন্যথায় আবেদন বাতিল বা ঝুলিয়ে রাখা হয়।
তারাদরম গ্রামের একাধিক গ্রাহক জানান, সাম্প্রতিক ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৫০–৬০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্রুত মেরামতের নির্দেশ থাকলেও কাজ বিলম্বিত হয় এবং পরে রাতের দিকে লাইন পুনঃস্থাপন করা হয়।
এছাড়া মুছেগুল, জামকান্দি ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করলে তাদের হয়রানি করা হয় এবং অনেক সময় স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে কাজ করানো হয়, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে।
আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তর শাহবাজপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বাইরে অবস্থান করেন এবং স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে কাজ করান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লাইনম্যান কামরুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, “তারাদরম এলাকার বিদ্যুৎ সমস্যা রাতেই সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”