মনোনয়ন না পেলেও হতাশ নন: মানুষের প্রতিনিধিত্বেই অটল আদিবা হোসেন
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পেলেও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন। এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, লক্ষ্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সৈয়দা আদিবা হোসেন সিলেট-৬ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের লেচু মিয়ার কন্যা। সাম্প্রতিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পেলেও বিষয়টি ঘিরে কোনো হতাশা প্রকাশ না করে বরং জনগণের প্রতি তার অঙ্গীকার আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি কখনোই রাজনীতিতে আসিনি কোনো পদ বা পদবির জন্য। আমার রাজনীতি সবসময়ই মানুষের জন্য, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মাটি ও মানুষের জন্য।” তিনি জানান, রাজনীতিতে তার আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা এবং তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা।
তিনি আরও লেখেন, “আমি চেয়েছিলাম আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে, আপনাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে, আপনাদের সমস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্য অধিকারগুলো সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে। এই স্বপ্নটাই আমাকে পথ দেখিয়েছে, আজও দেখায়।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
পোস্টে তিনি এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের যে ভালোবাসা, স্নেহ আর আস্থা আমি পেয়েছি তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবেন।
এ সময় তিনি তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার বাবা ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন সবসময় এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন এবং সেই আদর্শ থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত।
সৈয়দা আদিবা হোসেন তার পোস্টে আরও লেখেন, “পদ-পদবি হয়তো ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের সঙ্গে এই সম্পর্ক, এই ভালোবাসা, এটাই আমার আসল পরিচয়, আমার শক্তি।” তিনি জানান, জনগণের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়েই তার পথচলা অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন না পেলেও এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে সক্রিয় থাকার বার্তা দিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার এলাকায় তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং এই ধরনের আবেগঘন বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবশেষে তিনি আবারও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, তিনি সবসময় মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান এবং তাদের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।