logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সুনামগঞ্জ ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১৬ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

ভোরের অভিযানে ধরা ফজল হত্যা মামলার মূলহোতা: র‍্যাব-৯ এর জালে কুখ্যাত হারুন

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১৬ অপরাহ্ন সুনামগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১৬ অপরাহ্ন
ভোরের অভিযানে ধরা ফজল হত্যা মামলার মূলহোতা: র‍্যাব-৯ এর জালে কুখ্যাত হারুন

সুনামগঞ্জের ছাতকে সমাজসেবক ফজল মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও এলাকায় দীর্ঘদিনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত দুর্ধর্ষ অপরাধী হারুন মিয়া (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। বুধবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের রাজানগর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।


র‍্যাব-৯-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে অবশেষে হারুনকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়। জানা গেছে, দুর্গম এলাকায় দীর্ঘ সময় ওত পেতে থেকে ভোরের দিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে আটক করা হয়। যদিও এ বিষয়ে র‍্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মসজিদের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধের জেরে ছাতকের নোয়াকুট গ্রামের সমাজসেবক ফজল মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি হারুন আত্মগোপনে চলে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত প্রায় ২০ বছর ধরে খুন, ডাকাতি ও লুটতরাজের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল সে।


হারুনের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০০১ সালের ৩ জানুয়ারি একটি চুরির ঘটনায় গ্রামবাসীর ধাওয়ায় এক আসামি ধরা পড়লে তাকে ছাড়িয়ে নিতে হামলা চালায় হারুন ও তার বাহিনী। ওই হামলায় জমির আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় হারুন ৬ নম্বর চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিল।


এছাড়া ২০০৫ সালের এক ডাকাতি মামলায় জড়িত থাকার দায়ে ২০১১ সালে সিলেটের আদালত তাকে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সাজা ভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সে।


হারুন গ্রেপ্তারের খবরে নোয়াকুটসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ময়না মিয়া বলেন, “হারুন শুধু ফজল মিয়ার খুনি নয়, পুরো এলাকার জন্য অভিশাপ ছিল। আমরা চাই এবার তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক।”


গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব-৯ তাকে ছাতক থানায় হস্তান্তর করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাহিম জানান, প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের ফলে তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে এবং অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14836
Page of