কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা শুরু’, যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক।
বহু বছর পর সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নতুন অধ্যায় সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সংসদীয় গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক যাত্রা। তবে প্রথম দিনেই সংসদ তীব্র প্রতিবাদমুখর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে নিযুক্ত রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় সংসদ। রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির সংসদ সদস্যরা। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের কার্ড প্রদর্শন করেন। এরপর ওয়াকআউট করেন। এভাবেই ত্রয়োদশ সংসদের সূচনা হয়। তবে সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদনেতা ও সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে এই অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকায় প্রবীণ বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু হয়। তার পরিচালনায় সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করেন। তবে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমালোচনা করেন সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদনেতার আসনে বসেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রথমবারের মতো তিনি শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই সংসদ অধিবেশনে বসেননি, বসেছেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। বিগত দেড় দশকে দেশের প্রতিটি সেক্টরে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা মেরামত এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এক নতুন সংসদীয় যাত্রা শুরু হয়।
এদিকে দিনের শেষ দিকে স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য সংসদে আমন্ত্রণ জানান। বেলা ৩টা ৩৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলেই তার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিরোধী সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যে সংসদনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী মোট ৭৬টি আসন নিয়ে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ প্লাকার্ড প্রদর্শন, ওয়াকআউট বিরোধী দলের : জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ করার পরপরই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড দেখা যায়। গতকাল বিকেলে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যখন তার নির্ধারিত ভাষণ দিতে ডায়াসের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই এ ঘটনা ঘটে। পরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউটও করেন।
বেলা সাড়ে ৩টার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এর প্রতিবাদে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে প্লাকার্ড দেখা যায়। ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ সংবলিত প্লাকার্ড দেখা যায়।
এ অবস্থার মধ্যে সংসদ অধিবেশনে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি স্পিকারের পাশে বসেন। সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান বারবার। পরে বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। পরে একপর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের নিয়োজিত রাষ্ট্রপতির ভাষণ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে দিনের শেষ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করলেও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে উত্তাল সংসদ : একপর্যায়ে এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু’ বলে স্লোগান শুরু করলে বিরোধী জামায়াতের অন্যান্য সংসদ সদস্যও তাতে যোগ দেন। পুরো সংসদকক্ষ তখন ‘কিলার চুপ্পু’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। স্লোগান ও হট্টগোলের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে যান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে হাসিমুখে টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এদিন সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এদিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা হাসিমুখে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের শুরুতেই অভিনন্দন জানান। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।
হাসনাতের ‘গেট আউট চুপ্পু’ স্ট্যাটাস ভাইরাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন চলাকালে তীব্র বাগবিত-া ও প্রতিবাদের জেরে তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন (ওয়াকআউট)। গতকাল সংসদ থেকে বের হওয়ার পর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি ইংরেজিতে মাত্র ৩টি শব্দ লেখেনÍ ‘এবঃ ড়ঁঃ ঈযঁঢ়ঢ়ঁ’. স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘চুপ্পু’ নামেই পরিচিত। তবে এ বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তার এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংসদে গঠনমূলক ভূমিকার আশা স্পিকারের : জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ জাতীয় স্বার্থে এক সঙ্গে কাজ করবে এবং গঠনমূলক সংসদীয় চর্চার মাধ্যমে জনগণের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, জনগণের অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়, যা পুরো জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
তিনি বলেন, ছাত্র ও শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করে। স্পিকার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার ভিত্তি রচনা করেছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশের কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় দেশে গণতান্ত্রিক বিকাশের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কার্যত কবর দেওয়া হয়েছিল। তবে বারবার প্রতিবন্ধকতা ও স্বৈরশাসনের উত্থান সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণ কখনোই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থামায়নি। ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতি বারবার গণতান্ত্রিকব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে জীবিত থাকবেন খালেদা জিয়া : ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার নজিরবিহীন ত্যাগের বিনিময়ে দেশের মানুষের কাছে ‘দেশনেত্রী’ এবং ‘গণতন্ত্রের মা’ খেতাব পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আজকে তিনি আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু দেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে আছেন। সারা বিশে^র মানুষের কাছে গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি জীবিত থাকবেন। দেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ স্মরণ রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার হাত ধরেই এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরায় যাত্রা শুরু হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু হয়েছিল। এমনকি দেশে গণতন্ত্র এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতি হয়েছিল অভূতপূর্ব। ২০০১ সালে তিনি যখন আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। আজকে আপনারা অনেকেই এই শোক প্রস্তাবে বলেছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আসলে চারবার শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
খালেদা জিয়াকে অপরাজিতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ রকম আর কোনো নজির নেই। উপমহাদেশে আছে কিনা জানি না। যতবারই, যত আসনেই তিনি নির্বাচন করেছেন, ততবারই, তত আসনেই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আপসহীন দেশনেত্রী।
মির্জা আব্বাসসহ ৫ সদস্যের প্যানেল স্পিকার মনোনীত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিম-লী (প্যানেল স্পিকার) মনোনীত করা হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এই প্যানেল সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্যানেল স্পিকাররা নামের ক্রমানুসারে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। মনোনীত সভাপতিম-লীর সদস্যরা হচ্ছেনÑ মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-২), ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-১), মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিম-লীর তালিকায় যার নাম শীর্ষে থাকবে, তিনিই স্পিকারের আসন গ্রহণ করবেন এবং অধিবেশন পরিচালনা করবেন বলে অধিবেশনে জানান স্পিকার।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। গতকাল অধিবেশনের শুরুতেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের (প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) পক্ষ থেকে এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশে^র দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ সংসদের প্রধম অধিবেশনে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয় অধিবেশনে। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেনÑ মতিয়া চৌধুরী (সাবেক সংসদ উপনেতা), মেজর জেনারেল (অব.) কে. এম. সফিউল্লাহ, আবদুল্লাহ আল নোমান (সাবেক মন্ত্রী), মোস্তফা মোহসীন মন্টু, আব্দুল করিম খন্দকার (বীর মুক্তিযোদ্ধা) এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ ৩১ জন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।