জৈন্তাপুরে রহস্যজনক নীরবতায় পাহাড় কাটার মহোৎসব উপজেলা প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি-
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বিরামহীনভাবে চলছে পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও থামানো যাচ্ছে না এই ধ্বংসযজ্ঞ। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘রহস্যজনক’ নীরবতার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। এতে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে ভূমিকম্পের ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শিকারখাঁ মাঝেরঠুল ও বাগেরখাল এলাকায় একাধিক টিলা প্রকাশ্য দিবালোকে কাটা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আবুল হাসনাত মুহুরীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, একই এলাকার হাজী মুছিম আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী এবং উৎলারপার এলাকার ইমাম রাজার ছেলে বাবুল আহমদের মালিকানাধীন টিলাসহ বেশ কয়েকটি টিলা কাটার কাজ চলছে বিরামহীনভাবে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ থেকে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমান তালে এই কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫টি ডাম্পার ট্রাকযোগে টিলার মাটি বিভিন্ন স্থানে জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে গ্রামের রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া টিলা কাটার ফলে এর আশেপাশের বসতবাড়িগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পাহাড় কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস করে নয়। প্রশাসনের উদাসীনতায় এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আমরা আমাদের জীববৈচিত্র্য হারাবো এবং সিলেটে ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়বে। কেবল প্রতিবেদন নয়, পাহাড়ের মালিকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটার বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, আমি যোগদানের পর দুটি অভিযান পরিচালনা করেছি, কিন্তু ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট-এর কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। সেখান থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর টিলা মালিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।