logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সিলেট ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
মব জাস্টিসে ‘জিরো টলারেন্স’, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান

সিলেটে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন সিলেট
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন
সিলেটে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট সার্কিট হাউজে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও অত্যন্ত জরুরি। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনসহ সীমান্তবর্তী এলাকার ঝুঁকিগুলোও সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।


মাদক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। তাই মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।


সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘোষণা তিনি এর আগেও দিয়েছেন।


এ ছাড়া পূর্ববর্তী সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


‘মব জাস্টিসে জিরো টলারেন্স’


মব সৃষ্টি বা ‘মব জাস্টিস’-এর বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


তিনি বলেন, কোনো দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা, সেমিনারসহ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা তুলে ধরতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।


সিলেটে শীর্ষ ৫০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা


সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সিলেটের শীর্ষ ৫০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা গেলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সিলেটের মাদক পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।


এ কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট মহানগর পুলিশ দেশের অন্যতম বৃহৎ পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামীতে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে হবে।


সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় দেওয়া নির্দেশনার মাধ্যমে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আরও সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, জনসচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17368
Page of