গোলাপগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড
, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মামলা দায়েরের পর হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন মুক্তা আহমদ নামে এক প্রবাসী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মুক্তা আহমদ বলেন, তাঁর বাড়ির পাশের এলাকায় বাঘা ইউনিয়নের মরহুম নুর উদ্দিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন ‘লেকভিউ গার্ডেন সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প পরিচালনা করছেন। প্রকল্পের কাজে এক স্থান থেকে মাটি কেটে অন্য স্থানে নিয়ে জমি ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুক্তা আহমদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয় এবং মাটি কাটা ও ভরাটে বাধা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শরীফ উদ্দিনের কথিত লোকজন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং তাঁর ভাই মান্না আহমদকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে মান্না আহমদ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় আবেদন করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয় বলে দাবি করেন মুক্তা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, গত ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন আবাসন প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ চলছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে জানান তিনি।
মুক্তা আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় শরীফ উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয় এবং মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ট্রাকের বিষয়ও মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরদিন জামিনে বের হয়ে এসে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আবারও গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর গত ১৭ আগস্ট ভোরে তাঁদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুক্তা আহমদ অভিযোগ করেন, শরীফ উদ্দিন ও ডেভিল আফজল হোসেনের নেতৃত্বে তাঁদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আগুনে তাঁদের সাত কক্ষের পুরো বাড়ি পুড়ে যায় এবং এতে প্রাথমিকভাবে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারা জড়িত এবং আগুনের প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্তের বিষয়। প্রকাশিত পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে এ ঘটনায় শরীফ উদ্দিনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল এবং মামলা রেকর্ডের নির্দেশের তথ্যও পাওয়া গেছে।
মামলা দায়েরে বিলম্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মুক্তা আহমদ। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, ১৯ আগস্ট, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে তিনি সরাসরি গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় যান। বিভিন্ন কারণে তখন মামলা রেকর্ড হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরে ২৪ আগস্ট সিলেটের আদালতের আশ্রয় নিয়ে মামলা রেকর্ডের আবেদন করা হয় বলে জানান মুক্তা। আদালতের নির্দেশের পর গোলাপগঞ্জ মডেল থানা মামলাটি রেকর্ড করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে ‘ঘটনার সাত দিন পর মামলা’—এ ধরনের প্রচারণা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২৪ আগস্ট আদালত মান্না আহমদের করা নালিশি দরখাস্তকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তা আহমদ আরও অভিযোগ করেন, মামলার অন্যতম আসামি শরীফ উদ্দিন ও ডেভিল আফজল হোসেনসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছেন, তাঁর ভাই মান্না আহমদের ব্যাংক ঋণ ছিল এবং সেই কারণে তিনি নিজেই নিজের ঘরে আগুন দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেন।
মুক্তা আহমদের ভাষ্য, ব্যবসা সংক্রান্ত ব্যাংক ঋণের পরিমাণ আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হলেও অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। তাই ঋণের কারণে কেউ নিজের এত বড় সম্পদ পুড়িয়ে ফেলবেন—এমন দাবি অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পর তাঁর ভাই মান্না আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, এজাহারে তার সবকিছু উল্লেখ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মুক্তা আহমদ। তাঁর দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তদের লোকজন বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছিল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছিল। ফলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির আশঙ্কায় তখন সব বিষয় প্রকাশ্যে বলা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে মুক্তা আহমদ বলেন, তাঁরা কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চান না এবং কারও সম্পদও চান না। তাঁদের একমাত্র দাবি, ১৭ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং তদন্তে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে।