উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: উপযুক্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে দ্বিপক্ষীয় এ সফরের জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখনো কোনো ধরনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে উপযুক্ত সময় হলে সফরটি অবশ্যই হবে।’ দুই দেশের পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন (ইউএনজিএ) শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা থেমে গেছে—এমন ধারণাও নাকচ করে দেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘শুধু তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলেই আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটা নয়। আমরা এখনো তারিখ চূড়ান্ত করিনি, তবে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলমান ছিল।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন আবার আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। দেখা যাক কী হয়। উপযুক্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন।’ সফরের ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ঢাকার অসন্তোষ
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ওই ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং এ বিষয়ে ঢাকা তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য এ ধরনের ঘটনা সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। ভারতীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
দিল্লির অনুষ্ঠান বাতিলকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেন প্রতিমন্ত্রী
এদিকে গত ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার বাতিলের বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির।
নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় ইউরোপ-এশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে দিল্লি পুলিশ অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেওয়ায় তা বাতিল করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি ভারতের একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেমন ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে দিল্লি বা ভারতের অন্য কোনো এলাকায় আশ্রয় না দেওয়ার প্রত্যাশা করে ঢাকা।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে দিল্লি বা ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্য কোথাও আশ্রয় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। ‘আমরা আশা করি, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই, এ ধরনের পদক্ষেপ পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়তা করে,’ বলেন তিনি।
তাড়াহুড়ো নয়, কূটনৈতিক প্রস্তুতিতে জোর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়ে এর আগেও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বাসসকে গত মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস, একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক সংলাপ এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যেও একই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। অর্থাৎ, সফরের তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হবে।