ছাতকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে আহত ৫০, হেনস্তার শিকার ৩ সাংবাদিক
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি-ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার এবং তাদের দুটি মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুরে কলেজ গেটে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ ও গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
একপর্যায়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এতে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাতক-সিলেট ও ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকান এবং ছাত্রশিবিরের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ সময় সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোশাহিদ আলী, উপজেলা প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক এআর সায়েম এবং সদস্য লোকমান হোসেন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দুটি মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। সাংবাদিক মোশাহিদ আলী অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা ও হেনস্তা করেন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের জাকির হোসেন লাহিনসহ তিনজন এবং কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ ও লায়েক আহমদসহ মোট ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার কারণ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমদ দাবি করেন, তারা শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করছিলেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের কর্মসূচিতে হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে নাশকতাবিরোধী মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রশিবির তাদের মিছিলে বাধা দেয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে তিনি দাবি করেন। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে।
ছাতক উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাফিজ জাকির হোসাইন দাবি করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সবিবুর রহমান মতি বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেনি; বাইরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করে পরিস্থিতি শান্ত করে। ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।