বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক
আশীষ দাশ গুপ্ত, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচারের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের চাঁদের হাসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক।
গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাঁর মৃত্যুতে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং জেলা জাসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক ‘হবিগঞ্জ সমাচার’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছ।
সংবাদপত্রে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় হুইপ জি কে গউছ বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক ছিলেন আপাদমস্তক একজন দেশপ্রেমিক, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা। দলের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব তিনি সাহসিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিকূল ও সংকটময় সময়ে অনেকেই দল ছেড়ে চলে গেলেও গোলাম মোস্তফা রফিক কখনো দলের সঙ্গে বেঈমানি করেননি এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক বিশ্বাসে অটল ছিলেন।
জি কে গউছ বলেন, “তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত আপনজন এবং একজন অভিভাবকের মতো। তাঁর মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর চলে যাওয়ায় হবিগঞ্জের রাজনীতি, মুক্তিযোদ্ধা সমাজ ও বিএনপি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”
হুইপ মরহুমের জীবনের সব ভালো কাজ মহান আল্লাহ কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন—এ প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় শোক ও বেদনা সহ্য করার শক্তি দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোলাম মোস্তফা রফিক স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।