বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, র্যাবের হাতে আসামি গ্রেপ্তার
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি।
সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামি রবিউল ইসলাম (২৪)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম বিশ্বনাথ উপজেলার আনরপুর গ্রামের দবির মিয়ার ছেলে।
র্যাব-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারী বিশ্বনাথ থানার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
র্যাবের দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে রবিউল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রবিউল ইসলাম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় তার বাসায় রাতযাপন করেন এবং একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রবিউল ওই নারীর বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রবিউল সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা করেন। মামলাটি বিশ্বনাথ থানার মামলা নম্বর-১৪, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিলেট সদর কোম্পানির একটি দল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় পলাতক আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বিশ্বনাথ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।