মৌলভীবাজারে শিশুকন্যা হত্যা: বাবার মৃত্যুদণ্ড
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তান রুনা বেগমকে হত্যা করার দায়ে বাবা শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভানুবিল গ্রামের নিজ বাড়িতে সাড়ে তিন বছরের শিশু রুনা বেগমকে ধারালো দা দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই সময় শিশুটি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শরীফ আলীর সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে আইনি ঝামেলায় ফেলতে নিজের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরে হত্যার দায় সালেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার সময় শিশুর মা নেকজান বিবি চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে এসে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় শরীফ আলীর হাতে রক্তাক্ত ধারালো অস্ত্র ছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নিহত শিশুর মা ও শরীফ আলীর স্ত্রী নেকজান বিবি বাদী হয়ে ২০১৪ সালে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে একপর্যায়ে শরীফ আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় শরীফ আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমেদ বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণে শিশুকন্যাকে বাবার কাছে অত্যন্ত আপন ও আদরের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শরীফ আলী নিজের কোমলমতি সন্তানকে হত্যা করেছেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আইনানুযায়ী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ এক যুগ পর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।