হবিগঞ্জে নিবন্ধিত টমটম ১,৩০০, চলছে ৫–৭ হাজারের বেশি
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জ পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাটারিচালিত টমটম (ই-রিকশা) ও অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এসব যানবাহনের বড় একটি অংশই এখনো বৈধ নিবন্ধনের আওতায় নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, হবিগঞ্জ পৌরসভায় নিবন্ধিত টমটমের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি হলেও বাস্তবে শহর ও আশপাশের এলাকায় চলাচল করছে ৫ থেকে ৭ হাজারের বেশি টমটম। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে অতিরিক্ত ও অনিবন্ধিত টমটম চলাচলের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে হবিগঞ্জ শহরে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি চার্জিং গ্যারেজ। এছাড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিকের বেশি গ্যারেজে টমটম ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত টমটম চলাচলের কারণে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজটও বাড়ছে। অবৈধ টমটমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত জুলাইয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভা অভিযান চালিয়ে ৩০টি টমটম আটক করে এবং যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানায়।
এদিকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব যানবাহনকে নিবন্ধন ও নবায়নের আওতায় আনার পাশাপাশি বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা চার্জ করলে জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে নতুন করে নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর এমনভাবে চার্জ করলে পরবর্তী সময়ে নবায়নও করা হবে না।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার শর্তসহ অন্যান্য শর্তও নির্ধারণ করা হবে।
হবিগঞ্জের সচেতন মহলের মতে, শহর ও সদর উপজেলার বিপুলসংখ্যক টমটম ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রতিদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে এসব যানবাহনের চার্জিংয়ের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হচ্ছে। তাই চার্জিং গ্যারেজগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
তাদের মতে, প্রতিটি চার্জিং গ্যারেজে সৌর প্যানেল স্থাপন করে দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, হবিগঞ্জ শহরে যেখানে নিবন্ধিত টমটমের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০, সেখানে বাস্তবে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। ফলে শুধু নিবন্ধন ও নবায়ন নয়, এসব যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ, সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং চার্জিং গ্যারেজগুলোর ব্যবস্থাপনাও জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধিমালা কার্যকর করার পাশাপাশি হবিগঞ্জে চলাচলরত টমটম ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চার্জিং গ্যারেজগুলোকে নীতিমালার আওতায় এনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা গেলে একদিকে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও এগিয়ে যাবে হবিগঞ্জ।