logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
হবিগঞ্জ ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৫৫ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে চার বছরের উচ্চশিক্ষার সুযোগ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ: ৭৪ লাখ টাকার স্কলারশিপ পেলেন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জেমি

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৫৫ অপরাহ্ন হবিগঞ্জ
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ:  ৭৪ লাখ টাকার স্কলারশিপ পেলেন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে জেমি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :


হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) উচ্চশিক্ষার জন্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বৃত্তি পেয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৩ লাখ টাকা। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতি বছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি শায়েস্তাগঞ্জের জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি ওই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বাবা আফজল আলী পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যান জেমি।


এইচএসসি পাসের পর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন তিনি। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। তবে আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করেন।


সামার স্কুল প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করার পর শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান জেমি। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে চার বছরের জন্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সামার স্কুলের সময় শিক্ষার্থীদের মেধা, অতিরিক্ত যোগ্যতা ও পারিবারিক আর্থিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয়।


বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি বলেন, “এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।”


মেয়ের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত বাবা আফজল আলী। মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেমি বৃত্তি পাওয়ায় তিনি অনেকটাই চিন্তামুক্ত হয়েছেন। এখন তার মেয়ে ভালো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। মেয়ের এ অর্জনে তিনি গর্বিত।


জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এই অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার উজ্জ্বল প্রমাণ।


এর আগে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজে আয়োজিত বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি।


শায়েস্তাগঞ্জের একটি সাধারণ পরিবারের মেয়ে জেমির এই সাফল্যে স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না—জান্নাতুল ফেরদৌস জেমির অর্জন তারই অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17097
Page of