বিশ্বনাথে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি।
সিলেটের বিশ্বনাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৯২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার নম্বর ১৭। উপজেলার অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবান টেংরা গ্রামের মৃত আবদুল আলীর ছেলে ইরন মিয়া (৫৫) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি আবদুল কাইয়ুমকে (৪০/৪৫) তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বিশ্বনাথ পৌর এলাকার অলংকারী গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পৌর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মকদ্দছ আলী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজ মিয়া, সদস্য কবির আহমদ কুব্বার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মুহিবুর রহমান সুইট, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রফিক হাসান, ফজর আলী, বারাম উদ্দিন, পৌর শাখার আহ্বায়ক আব্দুল জলিল জালাল, যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন, শংকর দাস শংকু, খাজাঞ্চী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আব্দুর নূর, সাধারণ সম্পাদক শংকর চন্দ্র ধর, অলংকারী ইউনিয়ন শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরা মিয়া, রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, শেখ ফজর রহমান ও ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি পার্থ সারথী দাশ পাপ্পুসহ ৯২ জনের নাম এজাহারে রয়েছে।
এজাহারে আরও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—শামীম, রুহেল খান, ওয়াহাব আলী, জুনাব আলী, আবদুল হান্নান তোতা, হাবিব মিয়া, দুদু, মানিক মিয়া, রফিক মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দ হোসেন, আব্দুস ছত্তার, সেলিম মিয়া, ইবাদুল ইসলাম, শাহজাহান সিরাজ, বাবুল মিয়া, আব্দুল মনাফ, আবুল কালাম, আবদুস ছোবান, কাওছার আহমদ, মতিন আহমদ, মঈন উদ্দিন, সালমান খান, লায়েক আহমদ, জাহেদ আহমদ, আমিনুল ইসলাম, সাহেদ মিয়া, সানুর আলী, সিরাজুল হক, আব্দুল মান্নান, আব্দুস শহিদ, তোরণ মিয়া, শামিম মিয়া, খোকন মিয়া, রাজন মিয়া, নজরুল ইসলাম, মামুন মিয়া, শামছুল হক, ইয়াছিন আলী, আনোয়ার হোসেন আনোয়ার, জসিম উদ্দিন, আকবর আলী, কমরু মিয়া, শাহেদ, জাহেদ মিয়া, এখলাছ মিয়া, সারোয়ার মিয়া, জুবেল মিয়া, নাহি মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, নাছির আলী, রাসেল মিয়া, ফয়ছল আহমদ, শেখ সালমান আহমদ, আব্দুল আহাদ রোকন, বাচ্চু মিয়া, নজমুল আলম, বদরুল আলম, জয়নাল মিয়া, আকরাম মিয়া, নুরুজ্জামান, রেনু মিয়া, জামাল মিয়া, রনি মিয়া, আফাজ মিয়া, শাহিন মিয়া, ফারুক মিয়া ও কাজী সাঈদ।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা এলাকায় আসামিরা সড়কের ওপর গাড়ির টায়ার জ্বালিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, ত্রাস সৃষ্টি, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে।
মামলায় বিশ্বনাথ উপজেলার পাশাপাশি ওসমানীনগর উপজেলার কয়েকজনকেও এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার একজন, অভিযান অব্যাহত
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান আবদুল কাইয়ুমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আবদুল কাইয়ুমকে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।