খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে: আমিনুল হক
হবিগঞ্জ, ২২ আগস্ট : খেলাধুলা এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের সার্বিক কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাতীয় এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ ও স্থায়ীভাবে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার ব্যয়ভার সরকার বহন করবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলার ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছ এমপি সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রমের প্রথম আসর ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। আগামী অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের মাদক ও প্রযুক্তির আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ের বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীরা নিজ এলাকায় থেকেই উন্নত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার সুযোগ পায়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য বগুড়ায় প্রায় ২০ একর জায়গার ওপর ‘আরাফাত রহমান জাতীয় প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে হবিগঞ্জে একটি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেছে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, সহনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এর মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি সুস্থ ও সহনশীল সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা যায়। সব ধরনের প্রতিহিংসা ও বিভাজন দূরে রেখে সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছ এমপি বলেন, হবিগঞ্জে স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগ জেলার ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের উদ্যোগে হবিগঞ্জে স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপনের পরিকল্পনায় হবিগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জি কে গউছ বলেন, জেলার ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে হবিগঞ্জ থেকে জাতীয় পর্যায়ে আরও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে।
জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল জামাল মোল্লাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্ত সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাইয়ের লক্ষ্য এবং দ্বিতীয় আসরের প্রস্তুতি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের সঙ্গেও এ বক্তব্যের সামঞ্জস্য রয়েছে।