logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
আন্তর্জাতিক ০২ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
সেউতা সীমান্তে অভিবাসন সংকট

অবৈধ অনুপ্রবেশে চাপে স্পেন, সমালোচনার মুখে সানচেজ সরকার

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০২ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ০২ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫০ অপরাহ্ন
অবৈধ অনুপ্রবেশে চাপে স্পেন, সমালোচনার মুখে সানচেজ সরকার

ফ্রান্স প্রতিনিধি:


স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতা (Ceuta) নতুন করে বড় ধরনের অভিবাসন সংকটের মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনে মরক্কো ও সাব-সাহারা আফ্রিকার হাজারো মানুষ সাঁতরে, ভাসমান টিউব এবং ছোট নৌকায় করে সেউতা সীমান্ত দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। এতে সীমান্ত এলাকায় মানবিক ও প্রশাসনিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।


স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অভিবাসীদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তাও বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। এ রায়ের পর মানবপাচারকারী চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আরও বেশি মানুষকে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেছে স্পেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।


এরই মধ্যে স্পেন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য বিশেষ বৈধকরণ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসী বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ পাবেন।

সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা, শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা এবং কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা।


তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকারের উদার অভিবাসন নীতি এবং বৈধকরণ কর্মসূচি নতুন করে অবৈধ অভিবাসীদের স্পেনে প্রবেশে উৎসাহিত করছে। যদিও সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বৈধকরণ কর্মসূচি নতুন আগতদের জন্য নয়; এটি কেবল নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই স্পেনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টি (PP) এবং ডানপন্থী ভক্স (Vox) সরকারকে সীমান্ত নিরাপত্তায় ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, সরকারের অভিবাসন নীতির কারণেই সীমান্তে চাপ বেড়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।


অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার বলছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা মেনেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে স্পেন। দুই দেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে যাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব, তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সমন্বয় জোরদার করছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সেউতা সংকট শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি ইউরোপের অভিবাসন নীতি, মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি যে শুধুমাত্র বৈধকরণ কর্মসূচির কারণেই বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বরং মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা, সীমান্ত পরিস্থিতি, আদালতের রায় এবং স্পেন-মরক্কো সম্পর্ক—সব মিলিয়েই সংকটের তীব্রতা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/16717
Page of