সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে সর্বদা পাশে থাকবে সিসিক: প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
সিলেট: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিসিক সর্বদা সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের পাশে থাকবে এবং সিলেটের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নগরের শারদা স্মৃতি ভবন প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পাঠশালা’ আয়োজিত ‘পাঠশালায় বৈশাখ ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লোকসংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমনকুমার দাশ।
প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট অঞ্চলে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এ খাতে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি ‘পাঠশালা’র কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, শিশুদের মেধা বিকাশ ও নেতৃত্ব গঠনে এ সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। “পাঠশালা শিশুদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করছে এবং তাদের সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তুলছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে,”—যোগ করেন তিনি।
এছাড়া তিনি শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে পাঠশালার মতো অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সিলেট আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান। এ উপলক্ষে সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং অনুষ্ঠান সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুমনকুমার দাশ শিশুদের পরোপকারী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমাজসেবক জিয়াউল হকের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সীমিত শিক্ষাজীবন থাকা সত্ত্বেও তিনি দুধ-দই বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে বই কিনে মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন—যা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
‘পাঠশালা’র পরিচালক নাজমা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী, শিশু ও কিশোররা অংশগ্রহণ করে। তারা নাটক, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।