জকিগঞ্জে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক প্রণয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় দিবস উদযাপনের নামে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে এবং স’মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসনিক চাপের মুখে বাধ্য হয়ে তারা এ অর্থ দিয়েছেন। তাদের দাবি, আগে যেখানে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল, এবার তা বেড়ে ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
ফুলতলী ব্রিক ফিল্ডের পরিচালক মো. আবুল কাশেম খান বলেন, “টাকা না দেওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। অন্যরা ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, নামজারি সেবায় ঘুষ না দিলে আবেদন বারবার খারিজ করে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মাঠপর্যায়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি গাড়িতে ২০ হাজার টাকা না দিলে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হতো না। অর্থ না দিলে অভিযান চালিয়ে যানবাহন ভাঙচুর, তেল খুলে নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। এতে অবাধ মাটি কাটার কারণে উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আটগ্রাম স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদ ও মারুফ আহমদ অভিযোগ করেন, নির্বাহী ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে, যার একটি অংশ নগদ এবং বাকি অংশ বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া হয়।
লিলাম্বরপুর গ্রামের আবুল খায়ের জানান, “সরকারি কাজের মাটি ভরাটের ঠিকাদারি নিয়েছিলাম। এসিল্যান্ড এসে আমার বেকু গাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেন। পরে শ্রমিক আটকে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে এক লাখ টাকা দিই। ৫০ হাজার টাকার একটি ছেঁড়া রশিদ দেওয়া হলেও বাকি টাকার কোনো হিসাব নেই।”
এছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অগ্রাধিকারহীন প্রকল্প বাস্তবায়ন, এডিপি ও রাজস্ব খাতের অর্থ ব্যবহারে অসংগতি এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়।
জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
জানা গেছে, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভাগীয় কমিশনার (সিলেট) ও জেলা প্রশাসক সিলেটের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রণয় বিশ্বাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।