বৃত্তি পরীক্ষার শুরুতেই জৈন্তাপুরে বড় অনুপস্থিতি, প্রশ্ন উঠছে প্রস্তুতি নিয়ে
জৈন্তাপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরীক্ষা শুরু হয়, যা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জৈন্তাপুর উপজেলায় মোট ৬৩১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে বালক ২৬৯ জন এবং বালিকা ৩৭২ জন। কিন্তু প্রথম দিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। মোট উপস্থিত ছিল ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে বালক ১৫০ জন এবং বালিকা ২০৯ জন। বিপরীতে অনুপস্থিত ছিল ২৬৪ জন শিক্ষার্থী—যার মধ্যে বালক ১০৯ জন এবং বালিকা ১৫৫ জন। ফলে কেন্দ্রের অনেক আসনই ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তপন কান্তি দেব। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলহাস। এছাড়া হল সুপার হিসেবে দায়িত্বে আছেন মো. মনিরুজ্জামান এবং সহকারী হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মামুনুল ইসলাম।
পরীক্ষার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রথম দিনে বাংলা, দ্বিতীয় দিনে ইংরেজি, তৃতীয় দিনে গণিত এবং শেষ দিনে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণমান ১০০ নম্বর হলেও বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচয় দুটি বিষয় ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরে নেওয়া হচ্ছে।
প্রথম দিনের পরীক্ষা পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ। তারা কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন এবং পরীক্ষার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদ হাসান জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বছর জৈন্তাপুর উপজেলার মোট ৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১২টি বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
প্রথম দিনেই এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পরীক্ষার সময়সূচি, প্রস্তুতির ঘাটতি বা অন্যান্য বাস্তব কারণের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরবর্তী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে এবং পরীক্ষার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।