logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১১ অপরাহ্ন
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬:

লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।


বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও ৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে ও সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনকে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে।


তিনি আরও বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্প বিকাশে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া কনসেশনাল ঋণের সুযোগ সীমিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সংকুচিত হবে। তাই টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।


তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা জরুরি। শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও একটি নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।


প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হবে।


অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


উল্লেখ্য, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। রিভলভিং ফান্ড থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। উদ্যোক্তারা এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন, যার সুদের হার ৮ শতাংশ।


এছাড়া জাইকার সহায়তায় বিআইএফএফএল-এর মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ১২৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হবে, যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা থাকবে ১ কোটি টাকা।


অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।


এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।


চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/14689
Page of