চা পাতা তুলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না মীরার
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
প্রতিদিনের মতো সকালে চা পাতা তুলতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মীরা হাজরা (৪০)। দিন শেষে চা পাতার বোঝা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও আর বাড়ি ফেরা হয়নি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর ভাড়াউড়া চা-বাগানের একটি গভীর ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানের ২৯ নম্বর সেকশনের একটি গভীর ড্রেন থেকে মীরা হাজরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই চা-বাগানের একজন চা শ্রমিক ছিলেন। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে একাধিক স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের সূত্র।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৯টার দিকে চা পাতা তুলতে বাড়ি থেকে বের হন মীরা হাজরা। দিনভর কাজ শেষে নির্ধারিত সময়েও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা বাগানের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাতে ভাড়াউড়া চা-বাগানের ২৯ নম্বর সেকশনের একটি গভীর ড্রেনের ভেতর মীরার মরদেহ দেখতে পান স্বজন ও সহকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহের পাশে চা পাতা বহনের বড় একটি পুটলিও পাওয়া যায়।
শ্রীমঙ্গল থানার ডিউটি অফিসার সফিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চা পাতা সংগ্রহের সময় গভীর ড্রেনটি পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত মীরা হাজরা সেখানে পড়ে যান। এ সময় তাঁর মাথায় থাকা আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ কেজি চা পাতার বোঝার নিচে তিনি চাপা পড়তে পারেন। মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
তবে মীরা হাজরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে মীরা হাজরার আকস্মিক মৃত্যুতে ভাড়াউড়া চা-বাগান এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্বজনেরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে চা-বাগানের শ্রমিকদের চলাচলের পথে থাকা গভীর ড্রেন, খালসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।