logo
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ
জাতীয় ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন চ্যানেল জৈন্তা নিউজ

নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন জাতীয়
চ্যানেল জৈন্তা নিউজ ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর ধরা হবে। দীর্ঘ ১২ বছর পর বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এ নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৯তম বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে।


মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে সন্ধ্যায় তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।


তিনি জানান, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তার পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে। এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হতে পারে।


নবম জাতীয় পে-কমিশন গঠনের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় পে-কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।


নাসিমুল গনি জানান, ন্যায্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।


এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সরকার এক গ্রেড এক পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে একই সঙ্গে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রয়োজন থাকলেও এর সঙ্গে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং ২০১৯ সালের পূর্বে অবসর নেওয়া অসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন গ্রহণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।


নতুন বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।


এছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য থাকলেও নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী এ ভাতা পাবেন।


সরকারের হিসাবে, নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ অর্থের সংস্থান সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী রাখা হয়েছে।


সরকারের মতে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মউদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ কার্যকর করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তারিত বিধান উল্লেখ থাকবে।


সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হবে।

চ্যানেল জৈন্তা নিউজ · https://channeljaintanews24.com/top-news/17346
Page of