ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে ঢাকার পরিবেশ উন্নয়নে স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরামর্শ
ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নগরবাসীর সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ময়লার বিন প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দিনের বেলায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তাই রাতের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নে রাস্তার দুই পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের পরামর্শ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, রাজধানীকে শুধু পরিচ্ছন্ন করলেই হবে না; একই সঙ্গে এটিকে নান্দনিক, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
সভায় ঢাকা মহানগরীর চলমান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খালগুলোর সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দুই সিটি কর্পোরেশনেই সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ঢাকার মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে রাতে জোনাকির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটিকে নগরের পরিবেশ উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করে কাজে আরও গতি আনার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন উল্লেখ করে তিনি বাস্তবভিত্তিক সমাধান, কার্যক্রমের আগে ও পরের তুলনামূলক চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।