আজমিরীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট ২০২৪ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের অপসারণ ও ক্ষমতা স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) হাতে ন্যস্ত করা হয়। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য সপ্তম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নীরব আলোচনা। প্রকাশ্যে বড় ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও ভেতরে ভেতরে চলছে সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৩৩ টি গ্রামের মধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫১ হাজার ৮৯ জন, নারী ভোটার ৪৯ হাজার ৫০৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকে নারী-পুরুষের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে দলটির অনেক নেতাকর্মী এখন প্রকাশ্যে সক্রিয় নন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছেন এমন কথাও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে। ফলে দলটির দৃশ্যমান রাজনৈতিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মাঠে কিছুটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। বড় ধরনের সমাবেশের পরিবর্তে তারা গণসংযোগ, ছোট পরিসরের বৈঠক, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রচারণার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিভিন্ন দলের একাধিক নেতার নাম ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। বিএনপি ঘরানার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিবুর রহমান সওদাগর, সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সরশ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদুর রশিদ ঝলক এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান অভির নাম শোনা যাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা জামায়েত ইসলামের কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই ও মৌলভীবাজার শ্রমিক কল্যানের দায়িত্বশীল নেতা নেতা আব্দুল কদ্দুছ নোমান।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও শিবপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লোকমান মিয়া।
তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর দলীয় সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ করা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের উপজেলা নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি হবে স্থানীয় রাজনীতিতে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং জনআস্থা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি এবং দলীয় ঐক্য—এসব বিষয় নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে সম্ভাব্য সপ্তম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আজমিরীগঞ্জে রাজনৈতিক তৎপরতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তফসিল ঘোষণার পর মাঠের রাজনীতি আরও স্পষ্ট রূপ নেবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।