ঢাকা-গাজীপুর সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের
ঢাকাঃ
ঢাকা-গাজীপুর করিডরে যান চলাচল সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যমান বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, করিডরের উভয় পাশে সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য তিনটি করে লেন নির্মাণ করা হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিআরটি স্টেশন, লেন বিভাজক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে দুই লেনের দুটি উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সোমবার জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বিলুপ্ত করে এর দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে
বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি পর্যালোচনা দল প্রকল্পটির নকশাগত ত্রুটি ও সীমিত সক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে বিআরটি সেবা চালুর পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। নতুন করে বিনিয়োগ না করে বিদ্যমান অবকাঠামো সাধারণ যানবাহন চলাচলে ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছিল দলটি।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরেও অন্তর্বর্তী সরকার অতিরিক্ত সময় ও অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ঢাকা-গাজীপুর রুটে বিআরটি সেবা চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ নগর পরিকল্পনাবিদদের
সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনা নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সিদ্ধান্তটিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক উল্লেখ করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত গাজীপুর পরিবহন মহাপরিকল্পনা এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের আশঙ্কা, এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে এবং দীর্ঘদিন নির্মাণকাজের ভোগান্তিতে থাকা গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের গণপরিবহনের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ নাও হতে পারে।
দীর্ঘদিনের বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতার পর ঢাকা-গাজীপুর করিডরকে ছয় লেনের সাধারণ সড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সুযোগ নিশ্চিত করে প্রকল্পটির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)