জৈন্তাপুরে নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন, শেষ শারদীয় দুর্গোৎসব
স্টাফ রিপোর্টার:
বিদায়বেলায় বিষাদ আর আগামী বছরে ফিরে আসার প্রত্যাশা নিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন নদী, জলাশয় ও পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা।
এ বছর জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমীতে পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল বিদায়ের আবহ। সিঁদুর খেলা, ঢাকঢোল ও কাঁসর বাজানোর মধ্য দিয়ে উৎসবে অংশ নেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। আগামী বছর আবারও মা দুর্গা সপরিবারে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশায় অনেকের চোখে ছিল অশ্রু।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তা শেষ হয়। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা সারি, নয়াগাঙ, শ্রীপুর ও রাংপানি নদীসহ স্থানীয় জলাশয় ও পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি, থানা পুলিশ, আনসার বাহিনী ও গ্রামপুলিশ দায়িত্ব পালন করে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক অবস্থান এবং সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে শেষ হয় প্রতিমা বিসর্জন।
উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা। এ জন্য তাঁরা উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, উপজেলার সবকটি পূজামণ্ডপে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিং টিম বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে বিসর্জনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিল।
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতাকারী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ইউএনও।