শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে, কন্যাশিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান মাহমুদা সুলতানার
সিলেট :
শিশুদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মাহমুদা সুলতানা। তিনি বলেন, শিশুদের সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয় এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
কন্যাশিশুদের পরিবারে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের নারী। তারা ভবিষ্যতে মা, স্ত্রী কিংবা বোন হিসেবে পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একটি পরিবার পরিচালনা এবং সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মা ও স্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষিত মায়ের বিকল্প নেই। তাই কন্যাশিশুদের শিক্ষা, যত্ন ও বিকাশের প্রতি অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সোমবার সকালে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদা সুলতানা এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সিলেটের আয়োজনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ভাতা এবং স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক শাহিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনজুরুল আলম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোলজার আহমদ হেলাল, উইমেন ফর উইমেনের পরিচালক সামিয়া বেগম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিলেট ব্যুরোপ্রধান সেলিম আউয়াল।
অনুষ্ঠানে শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা এবং স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মাহমুদা সুলতানাসহ অতিথিরা এসব পুরস্কার ও চেক বিতরণ করেন।
আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ এবং বৈষম্যহীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।