খাদিমপাড়া ইউপি নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হতে চান সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, অঙ্গীকার বৈষম্যহীন ইউনিয়ন গড়ার
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিলেটের ৪ নম্বর খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আবারও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সাবেক তিনবারের ইউপি সদস্য ও সাবেক শিক্ষক। জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও দোয়াকে পুঁজি করে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি নিজের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানান। একই সঙ্গে একটি সমতাভিত্তিক, বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, স্মার্ট ও ডিজিটাল ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নির্বাচিত হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়নবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক এই জনপ্রতিনিধি বলেন, জনগণের সেবা তাঁর কাছে কেবল একটি দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি ইবাদত। মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়া এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখাকেই তিনি জনজীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখেন।
তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধিত্বের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়েই একটি এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। এ কারণে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
পরাজয়েও হতাশ নন, জনসেবার প্রত্যয় আরও দৃঢ়
বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাবেক এই জনপ্রতিনিধি জানান, নির্বাচনে পরাজিত হলেও এ নিয়ে তাঁর মনে কোনো দুঃখ বা হতাশা নেই। বরং তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় আরও দৃঢ় করেছেন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকলেও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মানসিকতা অটুট থাকা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া কিংবা না হওয়ার বাইরে থেকেও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁর অবস্থান থেকে প্রতীয়মান হয়।
এই বিশ্বাস থেকেই আসন্ন নির্বাচনে আবারও জনগণের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, ইউনিয়নবাসীর ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
গড়তে চান স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও স্মার্ট ইউনিয়ন পরিষদ
আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচিত হলে ৪ নম্বর খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও বৈষম্যহীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, জনগণের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হলে এমন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চান, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার, মর্যাদা ও সেবা পাবেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে যেন কেউ বৈষম্যের শিকার না হন, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে চান তিনি।
তাঁর পরিকল্পনার মূল দর্শনে রয়েছে সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ডিজিটাল সেবার ধারণা। একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেন তাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজে পেতে পারেন এবং পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় থাকে, সেই প্রত্যাশার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তিনি এমন একটি ইউনিয়ন পরিষদের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা থাকবে এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে খাদিমপাড়াকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তোলাই তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য।
ব্যক্তিস্বার্থ নয়, মানুষের কল্যাণকে দিতে চান অগ্রাধিকার
নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সাবেক এই জনপ্রতিনিধি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে মানুষের কল্যাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে এলাকার উন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে; ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়, এলাকার উন্নয়নে”—এই নীতিকে সামনে রেখেই তিনি এগিয়ে যেতে চান।
তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিত্বের সার্থকতা কেবল নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের আস্থা অর্জন, তাঁদের পাশে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার মধ্যেই এর প্রকৃত মূল্য নিহিত। জনগণের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে জনসেবার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা
আসন্ন নির্বাচনে নিজের পথচলায় ইউনিয়নবাসীর ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি। তিনি মনে করেন, জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা কঠিন।
এ কারণে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তাঁর আহ্বান, সবাই যেন পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে খাদিমপাড়াকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসেন।
তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকাই তাঁর অঙ্গীকার। ইউনিয়নবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে চান তিনি।
অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা
সাবেক শিক্ষক, তিনবারের ইউপি সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশের মধ্য দিয়ে স্থানীয় জনসেবায় যুক্ত থাকার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রতীক কিংবা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বক্তব্যে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর দেওয়া বক্তব্যে মূলত জনসেবা, এলাকার উন্নয়ন, সমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাই গুরুত্ব পেয়েছে।
সবশেষে ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জনগণের সেবায় এবং মানুষের কল্যাণে তিনি তাঁদের পাশে থাকতে চান। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন ৪ নম্বর খাদিমপাড়া ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।