জৈন্তাপুরে ২১ মণ্ডপে দুর্গোৎসব, নিরাপত্তায় প্রশাসন-পুলিশের সমন্বিত প্রস্তুতি
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২১টি পূজামণ্ডপে এবার উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে আনুষ্ঠানিকতা।
উৎসব চলাকালে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সিসি ক্যামেরা ও অনুদানের অর্থ তুলে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ছয় ইউনিয়নে ২১ পূজামণ্ডপ
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নে চারটি, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নে চারটি, ৩ নম্বর চারিকাটা ইউনিয়নে চারটি, ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়নে একটি, ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নে একটি এবং ৬ নম্বর চিকনাগুল ইউনিয়নে সাতটি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় নিরাপত্তায় গুরুত্ব
দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়ের সভাপতিত্বে সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন চলাচল, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন। সভা শেষে মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সিসি ক্যামেরা ও অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনও সুনন্দা রায় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ টহল ও নজরদারিতে পুলিশ
এর আগে গত ৩ অক্টোবর জৈন্তাপুর মডেল থানার হলরুমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে থানা পুলিশ। এতে সভাপতিত্ব করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। সভা পরিচালনা করেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আল আমিন মীর।
সভায় ওসি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পূজামণ্ডপে পুলিশের বিশেষ দল নিয়মিত টহল দেবে। মণ্ডপগুলো পরিদর্শন ও নজরদারির আওতায় রাখা হবে। মহাসড়কসংলগ্ন পূজামণ্ডপের আশপাশে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তবর্তী মণ্ডপে বাড়তি সতর্কতা এবং প্রতিমা আনা-নেওয়া থেকে বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, তাদের তালিকা থানায় জমা দেওয়া এবং অচল সিসি ক্যামেরা দ্রুত সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ওসি। যেকোনো সমস্যা বা সন্দেহজনক ঘটনা চোখে পড়লে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে জৈন্তাপুরে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।