বিশ্বনাথে প্রবাসীর সম্পদে ভাইদের অংশীদারত্বের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে ডিসির দ্বারে খছরু মিয়া
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথে জমি ও বাড়ির দলিলে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী খছরু মিয়া তাঁর দুই ভাই গৌছ মিয়া ও গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন। নিজের উপার্জিত অর্থে কেনা সম্পদের মালিকানা নিয়ে বিরোধের প্রতিকার চেয়ে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
খছরু মিয়া বিশ্বনাথ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাকলা গ্রামের ছুফু মিয়ার ছেলে। তাঁর অভিযোগ, ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর দেশে জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের জন্য নিজের উপার্জিত অর্থ দুই ভাইয়ের কাছে পাঠাতেন। কিন্তু তাঁর দাবি, ওই অর্থে কেনা জমি ও বাড়ির দলিলে নিজের নামের পাশাপাশি দুই ভাইয়ের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খছরু মিয়ার অভিযোগ, তাঁর দুই ভাইয়ের জীবনযাপনের তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর থেকে তিনি তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা করে আসছিলেন। এমনকি দুই ভাইয়ের একজনের ছেলেকেও লন্ডনে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তাঁদের বিয়ে ও পারিবারিক খরচও বহন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি জমি ও বাড়ির দলিলে দুই ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিকারের চেষ্টা শুরু করেন। এ নিয়ে একাধিকবার এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে বিচার-সালিশ হলেও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। পরে নিজের অর্থে কেনা সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি নিজে এ আবেদন জমা দেন বলে জানা গেছে।
সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা
এ বিষয়ে গ্রামের মুরব্বি ও সাবেক কাউন্সিলর মুহিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, খছরু মিয়া যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর তাঁর ভাইদের মাধ্যমে জমি কেনা এবং বাড়ি নির্মাণের ঘটনা সত্য। তবে বর্তমানে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে গ্রামের ও বাইরের মুরব্বিরা সালিশের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গৌছ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী খছরু মিয়ার অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।