গোলাপগঞ্জে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. এনামুল হক (৫৩)। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুনামপুর এলাকার মছলম উদ্দিন খান একাডেমির প্রধান শিক্ষক। তাঁর বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মৃত ইসলাম আলী।
প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নির্যাতনের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এনামুল হকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।
মামলা, আদালতে পাঠানোর তথ্য পুলিশের
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শিশুর বাবার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, শিক্ষক এনামুল হক তাঁর ছেলেকে দীর্ঘ চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি ছেলের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান।
শিশুটির বাবা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি তাঁর ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।